Chapter 2 of 2

ইযহানের ফাজলামো

392 words

মেঘলা Part 1 (দ্বিতীয় অংশ) — "ইযহান।" একটি শব্দ... শুধু একটি শব্দেই পুরো ড্রয়িংরুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল। খুন্তি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মরশেদা খালাও থেমে গেলেন। পরোটা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ইযহান ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছেন— ব্যারিস্টার রাজেশ চৌধুরী। সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, চোখে চিকন ফ্রেমের চশমা। মুখে গাম্ভীর্য, কিন্তু চোখে ছেলের প্রতি অদৃশ্য মমতা। নিচে নেমেই তিনি ইযহানের হাতে থাকা পরোটার দিকে তাকালেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন, — "কয়টা খেয়েছিস?" ইযহান একবার মরশেদা খালার দিকে তাকাল, আবার বাবার দিকে। তারপর মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল, — "এই... দুইটা।" মরশেদা খালা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলেন, — "দুইটা না, তিনটা!" ইযহান নাটকীয় ভঙ্গিতে বুক চেপে বলল, — "Damn it!" (ধুর!) "খালা, আপনি আমার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে গেলেন?" রাজেশ হালকা হেসে বললেন, — "আইনের ছাত্র হয়ে সকালবেলা চুরি করছিস?" — "চুরি না বাবা... টেস্টিং।" — "কীসের টেস্টিং?" — "পরোটা ঠিকমতো ফুলেছে কি না।" কথাটা শুনে রাজেশ আর হাসি চেপে রাখতে পারলেন না। ঠিক তখনই ওপর থেকে ভেসে এলো নরম কণ্ঠ— — "এত সকালে বাবা-ছেলের আদালত বসেছে নাকি?" সবাই একসঙ্গে তাকাল। ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নামছেন— ডা. নীলিমা চৌধুরী। হালকা অফ-হোয়াইট শাড়ি, খোলা সোজা চুল, মুখে প্রশান্ত হাসি। তিনি নিচে নেমেই ইযহানের কপালে আলতো টোকা দিলেন। — "তুই আবার মরশেদা খালাকে জ্বালালি?" ইযহান মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল, — "মা, আমি খুব ভালো ছেলে।" মরশেদা খালা হেসে বললেন, — "এই কথাটা শুনলে ফেরেশতারাও হাসবে!" পুরো ঘর আবার হাসিতে ভরে উঠল। ঠিক তখনই সিঁড়ির ওপর দেখা গেল দুই বোনকে। সামনে সিয়া। কাঁধ পর্যন্ত সোজা ডার্ক ব্রাউন চুল, হাতে ফোন, মুখে চিরচেনা দুষ্টু হাসি। তার পেছনে সাইরা। দুটি পরিপাটি বেণী, মুখে কালো মাস্ক, শান্ত চোখে চারপাশ দেখছে। সিয়া নিচে নেমেই বড় ভাইকে দেখে বলল, — "এই লুল্লু প্রাণী! আবার পরোটা চুরি করছিস?" ইযহান নাটকীয় ভঙ্গিতে আকাশের দিকে তাকাল। — "Holy Beach!" "এই বাড়িতে আমার সম্মানটা শেষ!" সাইরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। হঠাৎ শান্ত গলায় বলল, — "তুমি যদি প্রতিদিন একই দুষ্টুমি করো, তাহলে একই কথা তো শুনবেই।" সিয়া সঙ্গে সঙ্গে হেসে উঠল। — "শুনছো? ছোটটার কাছেও ধরা খেয়ে গেলে!" ইযহান দুই হাত তুলে বলল, — বিচ"" "তোরা দুই বোন আজকে একসাথে আমার পেছনে লাগছিস?" ঠিক তখনই নীলিমা মৃদু হেসে ছোট মেয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, — "আয়... আমার মেঘলা।" মুহূর্তেই সাইরার চোখের কঠিন ভাবটা নরম হয়ে গেল। সে কোনো কথা না বলে মায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। এই দৃশ্যটা চৌধুরী ম্যানশনের সবারই খুব প্রিয়। কারণ তারা জানে— 'মেঘলা' নামটা শুধু একজনের অধিকার। আর সেই মানুষটি... মা। চলবে...

End of Chapter 2

Chapter 2: ইযহানের ফাজলামো - মেঘলা | Novel AI Studio