Chapter 1 of 2

মেঘলার আগমন

447 words

মেঘলা লেখিকা: Oishi Zafreen Iftiba «"যে নামটা পৃথিবীর সবাই জানে, সেটা পরিচয়। আর যে নামটা শুধু একজন মানুষ ডাকে, সেটাই ভালোবাসা।"» --- ⚠️ সতর্কতা এই উপন্যাসটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। গল্পে পারিবারিক আবেগ, রহস্য, থ্রিলার, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও মানসিক দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে বিকশিত হবে। --- Part 1 ভোর ছয়টা। ঢাকার গুলশানের অভিজাত এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এক প্রাসাদ সূর্যের প্রথম আলোয় যেন আরও রাজকীয় হয়ে উঠেছে। কালো লোহার বিশাল গেটের ওপর সোনালি অক্ষরে লেখা— "চৌধুরী ম্যানশন" গেটের দুই পাশে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী। ভেতরে ঢুকতেই মাঝখানে সাদা মার্বেলের ফোয়ারা। চারদিকে গোলাপ, অর্কিড, রজনীগন্ধা আর দেশি-বিদেশি ফুলের বাগান। ডান পাশে কাঁচে ঘেরা একটি নৃত্যকক্ষ। সেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভেসে ওঠে তবলা আর ঘুঙুরের শব্দ। বাম পাশে বিশাল গ্যারেজ। সারি করে রাখা তিনটি কালো বিলাসবহুল গাড়ি। একটি মার্সিডিজ। একটি বিএমডব্লিউ। একটি রেঞ্জ রোভার। তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে চকচকে কালো কাওয়াসাকি নিঞ্জা। ওটা চৌধুরী পরিবারের বড় ছেলে সাইরাম আলাদিন ইযহান চৌধুরীর প্রাণ। আর এক পাশে রাখা আছে হালকা হলুদ রঙের একটি স্কুটি। সামনে বড় করে লেখা— "Pookie Siyaaa" 💛 আর এক কোণে হেলান দিয়ে আছে হালকা গোলাপি রঙের একটি সাইকেল। হ্যান্ডেলে বাঁধা গোলাপি ফিতা বাতাসে দুলছে। সেটা পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ের খুব প্রিয়। চৌধুরী ম্যানশনে মোট বারোজন কর্মচারী। তবে সবার মধ্যে সবচেয়ে আপন মানুষ একজনই— মরশেদা খালা। বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই বাড়ির সঙ্গে আছেন। তিন ভাইবোনকে ছোটবেলা থেকে নিজের সন্তানের মতোই বড় করেছেন। রান্নাঘরে তিনি গরম গরম পরোটা ভাজছেন। নিজের মনেই বিড়বিড় করে বললেন, — "আজকে আল্লাহ জানে আবার কোন ঝড় আগে নামবে..." কথা শেষ হতেই... উপরতলা থেকে একটা চিৎকার ভেসে এলো— — "মরশেদা খালাআআআ!" মরশেদা খালা চোখ বন্ধ করলেন। — "এই যে... ঝড় আইসা গেছে।" ধুপ... ধাপ... ধুপ... সিঁড়ি বেয়ে এক লাফে নিচে নেমে এলো লম্বা, সুদর্শন এক যুবক। উচ্চতা ছয় ফুটেরও বেশি। এলোমেলো কালো চুল। কালো ট্রাউজার। সাদা টি-শার্ট। গলায় রুপালি চেইন। হাতে ঘড়ি। মুখে দুষ্টু হাসি। সে— সাইরাম আলাদিন ইযহান চৌধুরী। বয়স একুশ। আইন বিভাগের ছাত্র। পাশাপাশি দেশের জনপ্রিয় জেন-জি হিপহপ নৃত্যশিল্পী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার। কলেজে অগণিত শিক্ষার্থীর ক্রাশ। কিন্তু বাড়িতে? সে একেবারে অন্য মানুষ। রান্নাঘরে ঢুকেই প্লেট থেকে দুইটা পরোটা তুলে মুখে পুরে দিল। মরশেদা ঘুরে তাকাতেই... প্লেটে আর মাত্র একটা পরোটা। — "ইযহান!" ইযহান মুখ ভরে পরোটা খেতে খেতে হাসল। — "Holy Beach!" তারপর চোখ টিপে বলল, — "Catch me if you can!" (ধরতে পারলে ধরো!) বলেই দৌড়! মরশেদা খালা খুন্তি হাতে তার পেছনে দৌড়ালেন। — "আজকে তোকে না ধরলে আমার নামই মরশেদা না!" ড্রয়িংরুমজুড়ে শুরু হয়ে গেল দৌড়ঝাঁপ। একবার সোফার এপাশ... একবার ওপাশ... ইযহান হেসেই চলেছে। ঠিক তখনই... উপরতলা থেকে গম্ভীর একটা কণ্ঠ ভেসে এলো— — "ইযহান।" শব্দটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে গেল। ইযহানও থেমে গেল। ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল... সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছেন— ব্যারিস্টার রাজেশ চৌধুরী। তার মুখে কোনো রাগ নেই। তবু তার উপস্থিতিতেই যেন পুরো বাড়ির পরিবেশ বদলে গেল... চলবে...

End of Chapter 1

Previous
Next Chapter